দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মঙ্গলবার রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার জংশন এলাকায় বগি লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে ঢাকা–সিলেট ও ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল প্রায় সাত ঘণ্টা বন্ধ থাকায় যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক বিপত্তি তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার ফলে সারাদেশের রেল শিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের আউটার সিগন্যাল এলাকায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রামগামী ঢাকা মেইল ট্রেনের একটি বগির দুইটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। এতে সেই রুটের রেললাইন সম্পূর্ণ ব্লক হয়ে পড়ে এবং ওই রুট দিয়ে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ঢাকা মেইল-২ (ডাউন) রাত ২টা ৪০ মিনিটে ভৈরব বাজারে পৌঁছান। নির্ধারিত যাত্রাবিরতির পর রাত ৩টা ২০ মিনিটে পুনরায় যাত্রা শুরু করছিল ট্রেনটি। স্টেশন অতিক্রম করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইঞ্জিন থেকে চার নম্বর বগিটি লাইনচ্যুত হয়।
লাইনচ্যুতির কারণে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেস, এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম মেইল ও তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন ভৈরব স্টেশনে আটকা পড়ে। এতে যাত্রীরা বিপাকে পড়েন এবং অনেকেই রেলস্টেশন ও আশপাশে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
উদ্ধার কাজে রেলওয়ে কর্মীরা সক্রিয় থাকেন। আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন সকাল ৭টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে বগি উদ্ধার এবং লাইন মেরামতের কাজ পুরোপুরি শেষ হতে কিছুটা সময় লাগবে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। রেললাইন মেরামত শেষে সতর্কতার সঙ্গে ট্রেনগুলো পুনরায় রুটে পাঠানোর কাজ করা হবে।
রেল শিডিউলের এই দীর্ঘ বন্ধের কারণে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে এবং অনেকেই বিকল্প ব্যবস্থার আশায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম পর্যন্ত সড়ক পথে চলাচল করছেন।
