লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

বাজেটের ৫৮ শতাংশ যাচ্ছে পাঁচ খাতে, সর্বোচ্চ বরাদ্দ জনপ্রশাসনে

প্রকাশিত: 12 জুন 2026

10 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে সরকারের ব্যয়ের বড় অংশ কেন্দ্রীভূত হয়েছে পাঁচটি খাতে। জনপ্রশাসন, ঋণের সুদ পরিশোধ, শিক্ষা, ভর্তুকি ও প্রণোদনা এবং স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ৫৮ শতাংশ।

প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেট নথি অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জনপ্রশাসন খাতে। এ খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ১ শতাংশ। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এ খাতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে দেশি ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, অতীতে উচ্চমাত্রার ঋণ গ্রহণের কারণে সুদ পরিশোধের চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।

শিক্ষা খাত পেয়েছে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ। বাজেটের প্রায় ১৩ দশমিক ১ শতাংশ বা ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা শিক্ষা খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রগতির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি গঠন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠায় শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাত। এ খাতে ৮৯ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। কৃষি, জ্বালানি, রপ্তানি এবং সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিগুলো পরিচালনায় এই অর্থ ব্যয় হবে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬২ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার বলছে, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসা অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

এ ছাড়া পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং প্রতিরক্ষা খাতে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কৃষি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, সংস্কৃতি, গৃহায়ন এবং শিল্প খাতেও পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এসব খাতের বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে সীমিত।

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও জনপ্রশাসন ও সুদ পরিশোধে বড় অংশ ব্যয় হওয়া দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য দীর্ঘমেয়াদে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman