দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে গত সাত দিনে পাঁচবার অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সক্রিয়ভাবে টহল ও নজরদারিতে যুক্ত করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে বাংলাদেশে মানুষ প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছে। তবে প্রতিবারই বিজিবির কঠোর অবস্থান, টহল এবং স্থানীয়দের সহযোগিতার কারণে এসব চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতায় মোট ১২টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট রয়েছে। এর মধ্যে যাদবপুর, সামন্তা, মাটিলা এবং বাঘাডাঙ্গা এলাকায় পুশ ইন ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছে সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী। এসব এলাকায় টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে এবং হ্যান্ডমাইক ও সংকেত ব্যবস্থার মাধ্যমে সতর্কতা জারি রাখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি অনেক সময় হঠাৎ করে জটিল হয়ে ওঠে। গোপালপুর গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, বিভিন্ন সময় সীমান্তের ওপার থেকে লোকজনকে কাঁটাতারের কাছে এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের কারণে এসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
মহেশপুর সীমান্তে প্রায় ৭৮ কিলোমিটার এলাকা ভারতের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার অংশে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও যাদবপুর ও মাটিলা বিওপি-সংলগ্ন প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় কোনো বেড়া নেই। এই অংশকে সবচেয়ে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সীমান্তের ওপারে ভারতের নদীয়া জেলা ও উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা অবস্থিত। ভূপ্রকৃতি ও জনবসতির কারণে এই অংশ দিয়ে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে সীমান্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
বিজিবির সদস্যরা জানান, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল, ঝোপঝাড়ে অবস্থান এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একদল সদস্য দায়িত্ব পালনের সময় অন্য দল বিশ্রামে গেলেও কোনো সময়ই ফাঁকা রাখা হচ্ছে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে বিভিন্ন বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট এলাকায় বিজিবির উপস্থিতি জোরদার দেখা গেছে। সদস্যরা হ্যান্ডমাইক ও বাঁশি ব্যবহার করে সতর্ক সংকেত দিচ্ছেন এবং সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন।
সীমান্ত বিশ্লেষকদের মতে, কাঁটাতারবিহীন অংশ এবং ভূ-প্রাকৃতিক জটিলতা এই এলাকায় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবে বিজিবির সক্রিয়তা ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম আরও বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
