লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’, চীন-তাইওয়ানজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা

প্রকাশিত: 10 জুলাই 2026

0 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

চীন ও তাইওয়ানের দিকে ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’। আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, ১৯৮৭ সালের পর বিস্তৃতি বা আকারের দিক থেকে এটি হতে পারে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় টাইফুনগুলোর একটি। সম্ভাব্য এই দুর্যোগ মোকাবিলায় চীন, তাইওয়ান ও জাপানে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা, প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রায় ২৯ হাজার সেনাসদস্য।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সুপার টাইফুন ‘বাভি’ সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চল এবং চীনের পূর্ব উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, নৌযান চলাচলে বিধিনিষেধ এবং উদ্ধার সরঞ্জাম মোতায়েনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত এই ঘূর্ণিঝড় উত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে শনিবার সন্ধ্যায় চীনের ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে। রাজধানী তাইপেসহ উত্তরাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তাইওয়ানের আবহাওয়া কর্মকর্তা জেসন চ্যাং বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক দশকে এত বড় আকারের টাইফুন খুব কমই দেখা গেছে। তার মতে, ১৯৮৭ সালের পর আয়তনের দিক থেকে এটি সবচেয়ে বড় টাইফুনগুলোর একটি হতে পারে।

চীনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও উপকূলীয় এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিতে প্রায় ২৯ হাজার সেনাসদস্য প্রস্তুত রয়েছেন।

এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে টাইফুন ‘মায়সাক’-এর আঘাতে চীনের গুয়াংসি অঞ্চলে অন্তত ৩৯ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন নিখোঁজ হয়েছেন। ওই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন এই সুপার টাইফুন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থাও ওকিনাওয়া অঞ্চলে প্রবল বাতাস, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা এবং ভূমিধসের ঝুঁকির কথা জানিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। একই সঙ্গে বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাপান এয়ারলাইন্স এবং অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ শতাধিক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে কয়েক হাজার যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে আরও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হচ্ছে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষক শিয়াংবো ফেংের মতে, দীর্ঘ সময় উষ্ণ সমুদ্রের ওপর অবস্থান করায় ‘বাভি’ বিপুল শক্তি ও আর্দ্রতা সঞ্চয় করেছে। ফলে উপকূলে আঘাত হানার সময় এটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ঝড়ের গতিপথে সামান্য পরিবর্তনও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

 

সূত্রঃ রয়টার্স

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman