দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে রাজধানীর গুলশান এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে নেমে এসেছে শোকের ভারী ছায়া। বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সেখানে ভিড় করেছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের অনেকেই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তবু চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।
হাসপাতালের সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে কান্না থামাতে পারছিলেন না মিজান রহমান। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরীজীবী। মৃত্যুর সংবাদ শুনে অফিসে না গিয়ে সোজা চলে এসেছেন হাসপাতালের সামনে। তিনি বলেন, “ম্যাডামের অভাব বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে কেউ পূরণ করতে পারবে না। উনি শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, একজন অভিভাবক ছিলেন।”
রিকশা রেখে হাসপাতালের গেটের পাশে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন আজগর মৃধা। পেশায় তিনি রিকশাচালক। কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। শুধু বললেন,
“ম্যাডাম নাই মানে দেশটা আরও গরিব হইল।”
শাকিলা বানু একজন গৃহিনী। মৃত্যু সংবাদ শুনে তিনি রাজধানীর মিরপুর থেকে ছুটে এসেছেন, তিনিও কাঁদছেন। তিনি জানান, কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের মিছিল বা সভায় যাননি। তবু খালেদা জিয়ার মৃত্যু তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। “আমি রাজনীতি বুঝি না। কিন্তু উনাকে দেখলে মায়ের মতো লাগতো ” বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
হাসপাতালের সামনে এ দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দিচ্ছিল বেগম জিয়া গনমানুষের কতটা হৃদয়ের কাছে অবস্থান করতেন। এখানে মানুষ এসেছেন দলীয় পরিচয়ে নয়, ভালোবাসা থেকে। অশ্রুসিক্ত চোখ নীরবে দাঁড়িয়ে আছেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যু যেন রাজনীতির বাইরেও বহু মানুষের জীবনের একটি আবেগী অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনে দিয়েছে। এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর কান্নাই তার সবচেয়ে বড় সাক্ষ্য।
