দ্য সিভিলিয়ানস । ভোলা প্রতিনিধি ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলার সদর উপজেলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয়েরা জানান, শনিবার সকালের সংঘর্ষের জেরে রাতেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করে।
স্থানীয় সূত্র মতে, গত শনিবার সকালে ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাঘমারা গ্রামে মনোনয়নপ্রাপ্ত আবু তাহেরের ঘরের সামনে ইসলামী আন্দোলনের সমর্থকদের একটি দল নির্বাচনী প্রচারণায় যায়। পূর্বের বিরোধের জের ধরে সেখানে জামায়াতে ইসলামী সমর্থকরা উপস্থিত হন এবং কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনাস্থলেই কোদাল ও লাঠিসোঁটা ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষ মিলিয়ে সাতজন আহত হন এবং তাদের ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তিও করা হয়েছে।
ভোলা জেলা (উত্তর) ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “ঠান্ডা মাথায় প্রচারণা চালানোই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, কিন্তু জামায়াতের সমর্থকরা তাঁদের ওপর হামলা করেছে। কোদাল ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাদের ওপর বেধড়ক আক্রমণ চালানো হয়েছে।” তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই মামলার প্রস্তুতিও চলছে।
অপরদিকে, ভোলা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মো. হারুন অর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “হাতপাখার প্রচারণায় হামলার কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। আগে যে অভিযোগগুলো তোলা হয়েছে, সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আমরা নেতা–কর্মীদের সংঘাত এড়িয়ে চলতে নির্দেশ দিয়েছি।”
সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামের আমির মো. কামাল হোসেন বলেন, “শফিকুল ইসলাম ও আবু সাইদ প্রতিবেশী; তাদের পারস্পরিক জমি-সংক্রান্ত ও পারিবারিক বিরোধ ছিল। বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হচ্ছে। মূল সংঘর্ষের সূত্রপাত চায়ের দোকানে কথাকাটাকাটি থেকেই।”
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন ইসলামী আন্দোলনের সমর্থকরা। তারা জামায়াতে ইসলামী বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের দাবি জানান।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাজ করছে।
