দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছে ভিয়েতনাম সরকার। জ্বালানি সাশ্রয় এবং সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় দেশটির শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনা দিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভিয়েতনাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে, কারণ দেশটি জ্বালানির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজন হলে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করতে বলেছে, যাতে যাতায়াত কমে এবং জ্বালানি ব্যবহার হ্রাস পায়।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ও পরিবহন কমানো এখন জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ। একই সঙ্গে নাগরিকদের জ্বালানি মজুত না করা এবং অপচয় এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জ্বালানি বাজারের চাপ ইতোমধ্যে দেশটির অভ্যন্তরীণ দামে বড় প্রভাব ফেলেছে। রাষ্ট্রীয় জ্বালানি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পেট্রোলিমেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসের শেষ থেকে পেট্রোলের দাম প্রায় ৩২ শতাংশ, ডিজেলের দাম ৫৬ শতাংশ এবং কেরোসিনের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। রাজধানী হ্যানয়ের অনেক পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের ঘটনাও দেখা গেছে।
সংকট সামাল দিতে ভিয়েতনাম সরকার জ্বালানি আমদানির ওপর শুল্ক সাময়িকভাবে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারির সময় জনপ্রিয় হওয়া দূরবর্তী কর্মব্যবস্থা এখন জ্বালানি সংকট ব্যবস্থাপনার নতুন নীতি হিসেবে ফিরে আসছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এশিয়ার আরও দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে।
