দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ওয়াশিংটনের দাবি। তবে বাস্তবে ইরান এখনো নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, সামরিক শক্তি ধ্বংসের দাবি সত্ত্বেও কীভাবে এই সক্ষমতা ধরে রেখেছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের শুরুতে ইরান ব্যাপক হামলা চালালেও এখন হামলার সংখ্যা কমেছে। সংঘাতের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও শত শত ড্রোন ব্যবহার করা হলেও দুই সপ্তাহ পর হামলা নেমে এসেছে দিনে কয়েকটিতে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে।
তবে পুরো সক্ষমতা ধ্বংস হয়নি। ধারণা করা হয়, যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে প্রায় তিন হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বহু লঞ্চার ধ্বংস করলেও দেশটির বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে ছড়িয়ে থাকা মোবাইল লঞ্চার ও গোপন ঘাঁটি পুরোপুরি শনাক্ত করা কঠিন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান এখন বড় আকারের হামলার বদলে সীমিত কিন্তু ধারাবাহিক আঘাতের কৌশল নিয়েছে। এক বা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সবসময় সতর্ক অবস্থায় রাখতে হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়বহুল ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
ইরানের আরেক শক্তি সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন প্রযুক্তি। ‘শাহেদ–১৩৬’ ধরনের ড্রোন দ্রুত উৎপাদনযোগ্য এবং সহজ অবকাঠামো থেকেই উৎক্ষেপণ সম্ভব। ফলে আকাশ নিয়ন্ত্রণ হারালেও হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি থেমে যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত “ক্ষয়যুদ্ধ” কৌশল। লক্ষ্য সামরিক বিজয় নয়, বরং অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা। ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে।
ইরান বুঝে গেছে সরাসরি সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন। তাই সীমিত হামলা, ড্রোন যুদ্ধ ও জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করছে।
সূত্র: আল জাজিরা
