দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এক বিশ্লেষণে ব্লুমবার্গ বলেছে, সামরিক চাপ বাড়লেও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো সহজে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম। বরং যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশটির ভেতরে উল্টো জাতীয়তাবাদী আবেগকে উসকে দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান সংঘাত অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ উসকে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং বহিরাগত হামলার মুখে সরকারের সমালোচকরাও রাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ভিন্নমতগুলো সাময়িকভাবে স্তিমিত হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।
ইরানের সামরিক ও ক্ষমতা কাঠামোও গত কয়েক দশকে বদলে গেছে। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক প্রক্সি যুদ্ধ এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটি একটি বিকেন্দ্রীভূত ও নেটওয়ার্কভিত্তিক শক্তি কাঠামো গড়ে তুলেছে। ফলে শীর্ষ নেতৃত্ব বা নির্দিষ্ট সামরিক কমান্ডারদের সরিয়ে দিলেই পুরো ব্যবস্থার পতন ঘটবে না।
প্রতিবেদনটি আরও বলছে, সামরিক হামলার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা কঠিন। তেহরান কৌশলগতভাবে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়বে, তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান সরাসরি সামরিক জয়ের চেয়ে কৌশলগত ধৈর্য এবং আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখার নীতিতে বেশি মনোযোগী। তাই তাৎক্ষণিক ধাক্কা দেশটির শাসন ব্যাবস্থাকে নাড়িয়ে দিলেও দ্রুত পতনের সম্ভাবনা সীমিত।
