দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার খান ইউনেসসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীরা অস্থায়ী পরিবেশে বসেই উচ্চ মাধ্যমিক সমমানের তাওজিহি পরীক্ষা দিচ্ছে এমন ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। যাচাই করে দেখা গেছে, যুদ্ধের কারণে স্কুল ধ্বংস, ঘরবাড়ি হারানো এবং ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির মধ্যেও শিক্ষার্থীরা সত্যিই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তবে নির্দিষ্টভাবে “সমুদ্র সৈকতে পরীক্ষা আয়োজন” বিষয়টি সব আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও, উন্মুক্ত স্থান, তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ে পরীক্ষা ও পড়াশোনার তথ্য একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্রে নিশ্চিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা ও শিক্ষাবিষয়ক পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের যুদ্ধ শুরুর পর গাজার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস বা অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্কুলের বদলে আশ্রয়কেন্দ্র, তাঁবু কিংবা খোলা জায়গায় বসে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
প্যালেস্টাইন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাওজিহি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের বাড়িঘর হারিয়ে শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে। কেউ মোমবাতির আলোতে পড়েছে, কেউ তাঁবুর ভেতর পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে। যুদ্ধ, বিদ্যুৎ সংকট ও অবরোধের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।
২০২৫ সালে বিশেষ ব্যবস্থায় অনলাইন ও জরুরি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই পরীক্ষায় অংশ নেয়। শিক্ষা কর্মকর্তারা বলেন, স্বাভাবিক পরীক্ষা কেন্দ্র না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থাই ছিল একমাত্র উপায়।
জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার অধিকাংশ মানুষ বর্তমানে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বসবাস করছে এবং দুই মিলিয়নের বেশি মানুষ সংকুচিত এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজার শিক্ষার্থীদের এই বাস্তবতা শুধু মানবিক সংকট নয় বরং শিক্ষার প্রতি গভীর সামাজিক প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। যুদ্ধের মধ্যেও পরীক্ষা দেওয়া এবং শিক্ষা চালিয়ে যাওয়া ফিলিস্তিনি সমাজে শিক্ষার গুরুত্বকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
গাজায় শিক্ষার্থীদের খোলা জায়গা বা অস্থায়ী আশ্রয়ে পড়াশোনা ও পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনা বাস্তব এবং আন্তর্জাতিকভাবে নথিভুক্ত। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো প্রতিটি নির্দিষ্ট দৃশ্য বা লোকেশন আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শিক্ষা টিকিয়ে রাখার এই প্রচেষ্টা মানবিক সহনশীলতার শক্ত উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
