দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। শুক্রবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারা অনুযায়ী দেওয়া এক বিস্তৃত বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি অগ্রসর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সময়কার অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকার সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বিনিয়োগের ধীরগতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা মোকাবিলায় কাজ চলছে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং কৃষক, জেলে ও খামারিদের জন্য বিশেষ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মসংস্থান বাড়াতে আইসিটি খাত, অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্লু ইকোনমি ও ইকো-ট্যুরিজমে বিনিয়োগের মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড চালুর মাধ্যমে রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাড়তি ভর্তুকির চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি সাশ্রয় ও বিকল্প উৎস ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও অটোমেশন বাড়িয়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত সংস্কার ও পুঁজিবাজার উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনের লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী হলেও তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
