দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
আজ বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা, উৎসবটি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে গভীর শ্রদ্ধা, ভক্তি ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে।
এই দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ এর জীবনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যেমন: জন্ম, বোধিলাভ এবং মহাপরিনির্বাণ—একই বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে সংঘটিত হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, খ্রিষ্টপূর্ব ৬২৩ সালে বর্তমান নেপালের লুম্বিনী উদ্যানে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পরে বোধগয়ার অশ্বত্থ বৃক্ষতলে সাধনার মাধ্যমে লাভ করেন বোধি বা জ্ঞান।
বুদ্ধের শিক্ষা মানবজীবনের দুঃখ, তার কারণ এবং মুক্তির পথকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তার প্রচারিত অষ্টাঙ্গিক মার্গ যেমনঃ সঠিক দৃষ্টি, সংকল্প, বাক্য, আচরণ, জীবিকা, প্রচেষ্টা, মনোযোগ ও ধ্যান মানবজীবনে শান্তি ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দেয়। পাশাপাশি ‘মধ্যমার্গ’ বা সংযমী জীবনধারার দর্শনও আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে প্রার্থনা, পূজা, প্রদীপ প্রজ্বালন, শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীসহ চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
উপলক্ষটি সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে মানবতা, সহনশীলতা ও অহিংসার চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে সংঘাত ও বিভাজনের প্রেক্ষাপটে বুদ্ধের শান্তি ও করুণার শিক্ষা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বুদ্ধপূর্ণিমার মূল বার্তা হলো মানবকল্যাণ, সহমর্মিতা ও নৈতিক জীবন যা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
