দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মার্কিন নৌ-অবরোধের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ তেল বহন করে একটি ইরানি ট্যাংকার এশিয়া অঞ্চলে পৌঁছেছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তথ্য সামনে এসেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ট্যাংকার ট্র্যাকিং সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ইরানের জাতীয় ট্যাংকার কোম্পানির একটি জাহাজ প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে ইরান থেকে যাত্রা করে। এই তেলের বাজারমূল্য প্রায় ২২ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭০০ কোটি টাকার সমান। দীর্ঘ সময় ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে জাহাজটি নজর এড়িয়ে চলাচল করে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটি শ্রীলঙ্কা উপকূল অতিক্রম করে ইন্দোনেশিয়ার লোমবোক প্রণালি দিয়ে রিয়াও দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে চলাচল করা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিয়মের দৃষ্টিতে সন্দেহজনক এবং এটি সচেতনভাবে নজরদারি এড়ানোর কৌশল হতে পারে।
এই ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে তাদের অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইতোমধ্যে ৪০টির বেশি জাহাজকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে এবং ইরানের তেল খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
তবে এই নতুন ঘটনার ফলে সেই দাবির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিকল্প রুট, গোপন পরিবহন কৌশল এবং তৃতীয় পক্ষের সহায়তায় ইরান এখনও বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারছে।
এই ঘটনা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। অবরোধ কার্যকর না হলে ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যেতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
