লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

অব্যবহৃত শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ, স্বাস্থ্যখাতে স্থবিরতা নিরসনকল্পে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক

প্রকাশিত: 11 মে 2026

31 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্মাণ শেষ হলেও বছরের পর বছর বন্ধ থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

সরকারি সূত্র জানায়, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে যে রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও কুমিল্লায় প্রায় ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক শিশু হাসপাতাল ভবন দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত এবং স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের অবিলম্বে হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করে চালুর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আগামী ২ জুনের মধ্যে অগ্রগতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামো নির্মাণের পর সেগুলো দীর্ঘদিন চালু না হওয়া জনসেবার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিশু চিকিৎসাসেবায় আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে এসব হাসপাতাল দ্রুত চালু করা জরুরি বলে মনে করছে সরকার।

বৈঠকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে আংশিকভাবে চালু থাকা ৫০০ শয্যার হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া রাজধানীর শাহবাগের বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি এর অধীন সুপার স্পেশালাইজেড হাসপাতাল দ্রুত কার্যক্রমে আনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে নীলফামারীতে ১ হাজার শয্যার বাংলাদেশ চায়না ফ্র্যান্ডশিপ হাসপাতাল নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চায়না দূতাবাসকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার বলছে, প্রকল্পটি দেশের প্রতিটি জেলায় আধুনিক সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ।

স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলে প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ দারিদ্র্য হার, সীমিত অবকাঠামো এবং দক্ষ জনবলের অভাবে জটিল রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, নীলফামারীর নতুন হাসপাতালটি চালু হলে সেটি উত্তরাঞ্চলের জন্য একটি আঞ্চলিক রেফারেল সেন্টার হিসেবে কাজ করবে।

স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, দেশে চিকিৎসা অবকাঠামো নির্মাণের পর দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়া একটি পুরোনো সমস্যা। নতুন সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জেলা পর্যায়ে শিশু ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভবন চালু করলেই হবে না, দক্ষ চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman