লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মূল নীতি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: 11 মে 2026

40 Views

The Civilians News

সরকার পুলিশ বাহিনীর কল্যাণ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মূল নীতি। এই নীতি বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’

সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের দায়িত্ব যেহেতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না এবং দিন-রাত এমনকি ছুটির দিনেও কাজ করতে হয়, তাই পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।’

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি প্রশাসনের কোনো পদই কারো জন্য চিরকাল সংরক্ষিত থাকে না। আমরা চিরস্থায়ী নই। এটি অতীতেও বিভিন্ন সময় প্রমাণিত হয়েছে এবং পৃথিবীর সব দেশেও এটি প্রমাণিত। ঠিক একই ভাবে জনপ্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসনের কোনো পদও কারো জন্যই চিরস্থায়ী নয়।’

সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও মানবিক একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই মন্তব্য করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি ইউনিফর্মের বাইরে গিয়ে আমার এই কথার সঙ্গে একমত পোষণ করবেন। আমি বিশ্বাস করি, একজন নাগরিক হিসেবে ইউনিফর্মে থেকেও আপনি একজন মানুষ হিসেবে এই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন চাইবেন। একজন বাংলাদেশি হিসেবে এই কথাটি শুধু একটি স্লোগান নয়, আমরা এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘সারাদেশের মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আপনারা সরাসরি ভূমিকা রাখছেন। আপনাদের ওপর অর্পিত এই দায়িত্ব যদি সফল ভাবে পালনে সক্ষমতার পরিচয় দেন, তবে আমি বিশ্বাস করি একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে আমরা একধাপ এগিয়ে যেতে সক্ষম হবো।’

তারেক রহমান বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের নির্দিষ্ট কিছু পদ নয়, বরং প্রতিটি পদই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কর্মকর্তা যে পজিশনেই দায়িত্বরত থাকুন না কেন, প্রশাসনের সকল পদে কাজ করার পেশাদার মানসিকতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের প্রত্যাশা করলে তা পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস হয়ে যায়। নিজের চাহিদা অনুযায়ী পোস্টিং পেলে সাময়িক ভাবে তুষ্ট হওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু এটি প্রফেশনালিজমের পরিপন্থী। তাই আহ্বান থাকবে, যার যেখানে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, সেই কাজটি গুরুত্বসহকারে পালন করুন। তবেই আমরা একটি দক্ষ, গতিশীল এবং পেশাদার পুলিশ প্রশাসন গড়ে তুলতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘কৌশলী ও ইতিবাচক কার্যক্রমের মাধ্যমে পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা ও নির্ভরতা সৃষ্টি হলে ০৫ আগস্ট পরবর্তী মব ভায়োলেন্সের মতো সমস্যাগুলো সফল ভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত দেড়-দুই বছরে এমন অনেক পরিস্থিতি আপনারা দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছেন। দীর্ঘ দুই দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান সরকার জনগণের কাছে একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই সরকার পুলিশ বাহিনীকে এমন এক রূপে দেখতে চায় যেখানে পুলিশ হবে সত্যিকারের জনবান্ধব এবং মানুষের আস্থার প্রতীক। সাধারণ মানুষ যেন পুলিশ প্রশাসনকে সরকারের দর্পণ বা আয়না হিসেবে দেখতে পায়। সুতরাং পুলিশ প্রশাসনের সাফল্য মানেই সরকারের সফলতা। একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠনে আপনাদের ভূমিকা অপরিহার্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অপশাসনের বিরুদ্ধে কোনো আপস করতে চায় না। আমি পরিষ্কার ভাবে বলতে চাই, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়; যে বা যারা অপরাধে লিপ্ত হবে, তাদের অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করবেন। কোনো ব্যক্তি বা দল আপনাদের পরিচয় নয়, বরং আপনারাই আইনের রক্ষক। আপনারা রাষ্ট্র এবং জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালন করবেন।’

প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে অপরাধের ধরণ পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরণ বদলে যাওয়ায় পুলিশের কাজের পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে। এটি এখন আর শুধু শহর বা জেলার সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম এখন বৈশ্বিক বাস্তবতা। এ কারণেই প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তাকে আরও বহুমুখী দক্ষতায় সমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। বিশ্বের যেকোনো দেশে সরকারের সাফল্যের জন্য দক্ষ, সাহসী, সৎ ও নিরপেক্ষ পুলিশ প্রশাসনের কোনো বিকল্প নেই।’

জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আইনগত ও মানবিক হবে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণে আপনাদের উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করতে হয়, যা দায়িত্বেরই অংশ। বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। তবে কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা কোনো প্রকার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে না পারে, সে দিকে সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। এ নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই।’

এমএ

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman