দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
তীব্র ভ্যাপসা গরম, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং দীর্ঘ যাত্রার চাপে রাজধানীমুখী কোরবানির পশুগুলোর অবস্থা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আনা পশুর মধ্যে অনেকগুলো হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে। কোথাও কোথাও পরিবহনেই মারা যাচ্ছে গরু। এতে বড় ধরনের লোকসানে পড়ছেন খামারি ও ব্যাপারীরা।
রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে ইতোমধ্যে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। তবে চলমান তাপপ্রবাহ ও গুমোট আবহাওয়ার কারণে পশু পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত গাদাগাদি করে পশু পরিবহন, দীর্ঘ সময় রোদে আটকে থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি ও খাদ্যের অভাব পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থেকে পোস্তগোলা পশুর হাটে গরু নিয়ে আসা এক ব্যাপারী জানান, ট্রাক থেকে নামানোর পরপরই তার একটি গরু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে বাধ্য হয়ে হাটেই সেটি জবাই করতে হয়। তিনি বলেন, দীর্ঘ যাত্রা ও গাদাগাদির কারণে পশুটি মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এতে তার প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে কেরানীগঞ্জ এর ঘাটারচর সুলতানী হাটে। চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা এক খামারি জানান, তার একটি গরু ট্রাক থেকে নামানোর পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে হাটের চিকিৎসক ওষুধ দেন এবং বিশ্রামের পরামর্শ দেন।
খামারিরা বলছেন, সাধারণত একটি ট্রাকে ২০ থেকে ২২টি গরু বহনের উপযোগী হলেও খরচ কমানোর জন্য সেখানে ২৫ থেকে ২৮টি পর্যন্ত গরু তোলা হচ্ছে। এতে পশুগুলো দাঁড়ানোরও পর্যাপ্ত জায়গা পাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় রোদে আটকে থাকায় অনেক পশু শ্বাসকষ্ট ও পানিশূন্যতায় ভুগছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশের আবহাওয়ায় অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে পশুর শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত পানি ও বিশ্রাম না পেলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়ে। বিশেষ করে দূরবর্তী জেলা থেকে আসা পশুগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী পশুর প্রতি অপ্রয়োজনীয় নিষ্ঠুরতা, অতিরিক্ত গাদাগাদি করে পরিবহন এবং খাদ্য ও পানির অভাব সৃষ্টি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনের ধারা ৬ এ এসব আচরণকে নিষ্ঠুরতার আওতায় আনা হয়েছে। প্রথমবার অপরাধে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তি আরও বাড়তে পারে।
তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আইন থাকলেও বাস্তব প্রয়োগ এখনও দুর্বল। পশু কল্যাণ সংগঠনগুলোর দাবি, ঈদকে কেন্দ্র করে পশু পরিবহনে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি ট্রাকে অতিরিক্ত পশু বোঝাই বন্ধ, যাত্রাপথে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং ছাউনির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, কোরবানি শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর সঙ্গে মানবিকতা ও দায়িত্ববোধও জড়িত। তাই এই তীব্র গরমে মানুষের পাশাপাশি পশুর প্রতিও সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি হয়ে উঠেছে।
