দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রপ্তানির আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে বেস্ট লেদার কোম্পানি লিমিটেডকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) পরিচালিত এক অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে রপ্তানি আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ দেশে না ফেরানোর অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ২৬ লাখ ৯৮ হাজার ৯০১ মার্কিন ডলার মূল্যের চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করা হয়। ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখার মাধ্যমে ১৬টি ঋণপত্রের বিপরীতে এসব রপ্তানি সম্পন্ন হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো অর্থ দেশে ফেরত আসেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী, রপ্তানি আয়ের অর্থ সাধারণত ১২০ দিনের মধ্যে দেশে আনতে হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে অনুমোদন সাপেক্ষে সময়সীমা আরও বাড়ানো যেতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় পরও অর্থ দেশে প্রত্যাবর্তন না করলে তা তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অর্থ পাচারসংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে সংস্থাটি শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে বিষয়টি অধিকতর তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, বেস্ট লেদার একটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এবং তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সময়ে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন না। একই সঙ্গে তার বক্তব্য, রপ্তানি আয়ের অর্থ দেশে আনার বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন।
অন্যদিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কাঠামো সম্পর্কে ভিন্ন তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা দায় নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে।
ইসলামী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তকারী সংস্থার অনুরোধে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা প্রচলিত নিয়ম মেনেই লেনদেন ও ঋণপত্র সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
এদিকে অর্থ পাচারবিরোধী কার্যক্রমে নিয়োজিত একাধিক সূত্রের দাবি, রপ্তানি আয়ের অর্থ বিদেশে আটকে রাখা কিংবা দেশে না ফেরানোর ঘটনাগুলো সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো মনে করছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রাজস্ব ও আর্থিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
তদন্তের অগ্রগতি এবং সিআইডির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

সূত্র : আগামীর সময়
