দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করার ঘোষণা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নেওয়া সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক মো. তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠানটি সম্মান করে এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করবে। একই সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হবে। জনগণের চিকিৎসাসেবা ও জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার হাসপাতালটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় যে ওয়ার্ডটিকে কেন্দ্র করে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটি ইতোমধ্যে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান হাসপাতালটির পরিচালক। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি এবং সেবাব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রোগী স্থানান্তরের বিষয়েও কথা বলেন মো. তারিকুল ইসলাম মুকুল। তিনি জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় কোনো রোগীর চিকিৎসা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের পাশে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। রোগীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসার ধারাবাহিকতা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্তের ভিত্তিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ সিদ্ধান্তের পর চিকিৎসাসেবার ভবিষ্যৎ, রোগীদের স্থানান্তর এবং হাসপাতালের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় দায় নিরূপণ, সেবার মান নিশ্চিতকরণ এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী মানুষের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
