লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে ইলিয়াস আলী গুমের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য

প্রকাশিত: 01 এপ্রিল 2026

17 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে সাম্প্রতিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা তথ্য। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ রিমান্ডে দেওয়া বক্তব্যে গুমের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার বিষয় উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সূত্র জানিয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে মামুন খালেদ দাবি করেছেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে র‌্যাবের মাধ্যমে পুরো গুম প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে ইলিয়াস আলী ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে তুলে নেওয়ার অভিযানে র‌্যাব ১ অংশ নেয়। অভিযানের আগে ও পরে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও হয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে জেরার সময় মামুন খালেদ নিজেকে সরাসরি দায়মুক্ত দাবি করলেও স্বীকার করেন, ডিজিএফআইয়ের অন্তত দুজন কর্মকর্তা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিলেন এবং কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা আগেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল। তদন্তকারীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিপাইমুখ বাঁধ ও ভারত বাংলাদেশের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরোধিতায় রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়াই ইলিয়াস আলীকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর অন্যতম কারণ ছিল।

অন্যদিকে তদন্ত সূত্রের দাবি, তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধান হিসেবে মামুন খালেদের দিকনির্দেশনাতেই অপারেশনটি পরিচালিত হয়। বিষয়টি এখনো যাচাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বর্তমানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার অবস্থায় রয়েছেন শেখ মামুন খালেদ। প্রথম দফার রিমান্ড শেষে আদালত তাকে পুনরায় ছয় দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে। একই সময় এক এগারো পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত, বিতর্কিত অভিযান এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত নানা তথ্যও তদন্তকারীদের সামনে আসছে বলে জানা গেছে।

এদিকে এক এগারো সময়ের আরেক সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. আফজাল নাছেরকেও পৃথক হত্যা মামলায় গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে শিল্পগোষ্ঠী থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন তিনি, যদিও ব্যক্তিগত অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসামিদের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের আলোচিত ইলিয়াস আলী গুম মামলা নতুন মোড় নিতে পারে যদি জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman