দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে দুই মাসের মধ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার ঠিক আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। তিনি প্রকাশ্যে দলের কর্মী ও সমর্থকদের কাছে বাংলাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়কে তিনি ‘মিঁয়া’ বলে আখ্যায়িত করে এবং সেই সাথে মুসলিমদের চাপে রাখা ও হয়রানির মধ্যে রাখা নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা আসাম ছাড়তে বাধ্য হয় বলেও মন্তব্য করেছেন।
আসাম রাজ্যে ‘মিয়া’ শব্দটি সাধারণত বাংলা ভাষা-ভাষী মুসলিমদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যা প্রায়শই আসামের মুসলিমদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগের সাথে যুক্ত করা হয়। শর্মা বলেছেন, আসামে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় পাঁচ লাখের বেশি মুসলিম নাগরিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীর অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে এবং তা ভোটার আগে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে চালানো হচ্ছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে “চাপ সৃষ্টি করে” তাদের ভোট ও সম্পত্তি সম্পর্কিত অধিকার হ্রাস করা।
মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন প্রচারের অংশ হিসেবে সাংবিধানিক ভাষ্য দিয়ে এই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, “মিয়া” শব্দ ব্যবহার করা অসাংবিধানিক নয় এবং এটি বাংলাদেশি মুসলিমদের দেওয়া একটি শব্দ, যা তিনি প্রয়োগ করছেন। শর্মা আরও বলেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার (SIR) মাধ্যমে ৪ থেকে ৫ লাখ “মিয়া” ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
এই মন্তব্যের পর রাজ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজ এই আচরণকে ভোটাধিকার লঙ্ঘন ও নান্দনিক মৌলিক অধিকারের বিরুদ্ধে প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং সংবিধানে সাংঘর্ষিক বলেও সমালোচনা তুলেছেন। একাধিক বিরোধী নেতা সুপ্রিম কোর্ট প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই ইস্যুটি মামলা হিসেবে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিরোধীরা মনে করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই সাংকেতিক ভাষা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে এবং ভোটাভুটির পরিবেশে উত্তেজনা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: Economic Times, Times of India, Hindustan Times, NDTV, The Week
