দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাদুড় থেকে ছড়ানো নিপাহ ভাইরাস এখনও বাংলাদেশের জন্য একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার শাহ মুহাম্মদ শরীফ, ডেপুটি সিভিল সার্জন এর তথ্য অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুহার প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই রোগের জন্য এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা বা টিকা নেই। ফলে প্রতিরোধই একমাত্র কার্যকর উপায়।
নিপাহ ভাইরাস সাধারণত ফলখেকো বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত বাদুড়ের লালা, মলমূত্রে দূষিত কাঁচা খেজুরের রস পান করলে, বাদুড়ের অর্ধভুক্ত ফল খেলে অথবা নিপাহ আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে এলে সুস্থ মানুষের শরীরে ভাইরাসটি প্রবেশ করতে পারে। সংক্রমণের পর সাধারণত ৪ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
রোগ লক্ষণঃ
১. ইনফ্লুয়েঞ্জার মতন জ্বর, মাথা ব্যাথা, পেশীর অবসাদ
২. শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহ ও শ্বাস কষ্ট
৩. মস্তিষ্ক সংক্রমণ এর ক্ষেত্রে সচেতনতার মাত্রা পরিবর্তন, ভুল/প্রলাপ বকা, অবচেতন হয়ে পড়া খিচুনি ইত্যাদি এক বা একাধিক উপসর্গ।

রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো জ্বর, মাথাব্যথা ও পেশীর দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। পরে শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহ ও শ্বাসকষ্ট তৈরি হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে সংক্রমণ হয়ে রোগীর সচেতনতার মাত্রা কমে যাওয়া, প্রলাপ বকা, খিচুনি কিংবা অচেতন হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
ডা. শাহ মুহাম্মদ শরীফ জানান, উপসর্গের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে কাঁচা খেজুরের রস বা অর্ধভুক্ত ফল খাওয়ার ইতিহাস কিংবা নিপাহ আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসার তথ্য এবং নির্ধারিত ল্যাব পরীক্ষার সমন্বয়ে রোগ নির্ণয় করা হয়।
রোগ নির্ণয়ঃ
১. উপরের এক বা একাধিক উপসর্গ
২. ১৪ দিনের মধ্যে খেজুরের কাচা রস বা অর্ধভুক্ত ফল খাবার ইতিহাস/নিপাহ
আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসবার ইতিহাস
৩. নির্ধারিত ল্যাবরেটরি পরীক্ষা
এই তিনের সমন্বয়ে রোগ নির্ণিত হতে পারে।
নিপাহ ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ডা.শরীফ পরামর্শ দেন, কাঁচা খেজুরের রস পান না করা, বাদুড়ের আবাসস্থলের আশপাশের কুয়োর পানি ব্যবহার না করা, অর্ধভুক্ত ফল না খাওয়া এবং আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে গেলে মাস্ক ও দস্তানা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রয়োজন হলে বিএমডিসি স্বীকৃত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান।
