দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান উন্নয়ন কর্মসূচি গ্লোবাল কমব্যাট এয়ার প্রোগ্রাম (জিসিএপি)–এ পর্যবেক্ষক (অবজারভার) হিসেবে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে কানাডা। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে দেশটি প্রকল্পটির শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পর্কে সীমিত প্রবেশাধিকার পেতে চায় বলে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে।
জিসিএপি বর্তমানে জাপান, যুক্তরাজ্য ও ইতালির যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করে তা সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা। পর্যবেক্ষক মর্যাদা পেলে কানাডা পূর্ণ অংশীদার না হয়েও প্রকল্পের প্রযুক্তিগত তথ্য পর্যালোচনা করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে সরঞ্জাম ক্রয় বা শিল্প অংশীদারিত্বে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কানাডা এখনও যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। প্রকল্পটির অগ্রগতি ও সম্ভাবনা মূল্যায়নের পরই তারা ক্রয় পরিকল্পনা নির্ধারণ করবে।
গত মার্চে জাপান ও কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা দ্রুত এগিয়েছে। তবে জাপান নতুন পূর্ণ সদস্য যুক্ত করার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের অর্থায়ন চূড়ান্ত না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ধীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অন্যান্য যুদ্ধবিমান প্রকল্পে অনিশ্চয়তা বাড়ায় জিসিএপির প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউরোপের ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম (এফসিএএস) প্রকল্প অংশীদারদের মতবিরোধে জটিলতায় পড়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন যুদ্ধবিমান কর্মসূচির অগ্রগতিও তুলনামূলক ধীর।
কানাডার আগ্রহের পেছনে তাদের এফ ৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশটি আগে ৮৮টি এফ ৩৫ কেনার সিদ্ধান্ত নিলেও সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যা কমানো বা বিকল্প প্ল্যাটফর্ম বিবেচনার আলোচনা চলছে।
এদিকে সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, সৌদি আরবসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশও জিসিএপি প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মহল জানিয়েছে।
