দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হলেই ঢাকার পুরোনো শহরের টিকাটুলি এলাকার কেএম দাস লেন নতুন এক পরিচয়ে পরিচিত হয় স্থানীয়দের কাছে। বাসিন্দারা একে ডাকেন “ফিফা গলি”। বিশ্বকাপ ঘিরে এই সড়কটি রূপ নেয় এক উন্মুক্ত ফুটবল গ্যালারিতে, যেখানে দেয়ালজুড়ে দেখা যায় রঙিন চিত্রকর্ম, ফুটবল কিংবদন্তিদের স্কেচ এবং বিশ্বকাপের নানা প্রতীক।

প্রতি বিশ্বকাপ মৌসুমে এলাকাটির তরুণরা একসঙ্গে মিলে দেয়ালগুলোতে আঁকেন ফুটবলের ইতিহাস, প্রিয় তারকা ও জাতীয় দলের নানা প্রতিচ্ছবি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব দেয়ালচিত্র এতটাই জীবন্ত হয়ে উঠেছে যে এখন তা শুধু স্থানীয়দের নয়, রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে বিশ্বকাপ চলাকালে এই এলাকায় ভিড় বাড়ে দর্শনার্থীদের। অনেকেই আসেন ছবি তুলতে, আবার অনেকে আসেন শুধু দেয়ালজুড়ে থাকা রঙিন শিল্পকর্ম উপভোগ করতে। ফুটবল নিয়ে এমন ভিজ্যুয়াল সংস্কৃতি ঢাকার অন্য কোথাও খুব একটা দেখা যায় না বলেই এলাকাটি আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, বিশ্বকাপের সময় পুরো গলি যেন এক ধরনের উৎসবের জায়গায় পরিণত হয়। শিশু থেকে শুরু করে বড়রা পর্যন্ত সবাই অংশ নেয় এই সাজসজ্জায়। কেউ দেয়াল আঁকে, কেউ রঙের কাজ করে, আবার কেউ পুরোনো চিত্রগুলো সংরক্ষণে সহায়তা করে।

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে “ফিফা গলি” এখন শুধু একটি সড়ক নয়, বরং এক ধরনের সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। বিশ্বকাপের উত্তেজনা এখানে কেবল টিভি পর্দায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং দেয়ালে, রঙে এবং মানুষের অংশগ্রহণে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন স্বতঃস্ফূর্ত নগর-ভিত্তিক ফুটবল সংস্কৃতি শহরের সামাজিক বন্ধন ও সৃজনশীলতাকে আরও শক্তিশালী করে। একই সঙ্গে এটি তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক সম্পৃক্ততা তৈরি করে, যা নগর সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ এলেই টিকাটুলির কেএম দাস লেন বদলে যায় এক রঙিন ফুটবল গ্যালারিতে, যা এখন ঢাকার ফুটবল সংস্কৃতির একটি অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে।

