লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

হাইকোর্টের সামনে ড্রামে খণ্ডিত মরদেহ শনাক্ত, পুলিশের জোরদার তদন্ত

প্রকাশিত: 13 নভেম্বর 2025

26 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

রাজধানীর হাইকোর্টের সামনের সড়কে ড্রামে পাওয়া খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় মিলেছে, খণ্ডিত দেহটি রংপুরের একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ীর। নিহত ব্যক্তির নাম মোঃ আশরাফুল হক (৪৩), যিনি ভারত থেকে আদা, পেঁয়াজ ও রোশনসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানি করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা করতেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন হাইকোর্টের ফুটপাত থেকে দুটি নীল রঙের ড্রামে ভর্তি তার খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় ছুটে আসেন, যা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

পুলিশের তথ্য অনুসারে, আশরাফুলের বাবার নাম মোঃ আব্দুর রশিদ এবং মায়ের নাম মোছাঃ এছরা খাতুন। তাদের বাড়ি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর নয়াপাড়া গোপালপুরে। গত ১১ নভেম্বর পাওনাদারদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের কথা বলে তিনি রংপুর থেকে ঢাকায় যান এবং তারপর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয়রা দুর্গন্ধের কথা জানিয়ে থানায় খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দুটি ড্রাম খুলে দেখে একটিতে চাল ভর্তি এবং অন্যটিতে কালো পলিথিনে মোড়ানো খণ্ডিত মরদেহ। গলা থেকে পা পর্যন্ত সবকিছু আলাদা করা হয়েছে এবং মুখে দাড়ি ছিল। পুলিশের ধারণা, দু-একদিন আগে হত্যার পর হত্যাকারীরা ভ্যানে করে ড্রামগুলো এখানে ফেলে গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে পরিচয় নিশ্চিত করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় সাক্ষী এবং আশরাফুলের ব্যবসায়িক সংযোগ খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়িক শত্রুতা বা পাওনার ঝামেলার সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও হত্যার সঠিক কারণ এখনো অজানা।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড রাজধানী সহ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গুরুতর প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন খণ্ডিত হত্যা প্রায়ই অর্থনৈতিক বিরোধ এবং ব্যাক্তিগত তীব্র জিঘাংসা থেকে উদ্ভূত হয়, এগুলো দ্রুত তদন্ত করে অবিলম্বে অপরাধীরের শাস্তির আওতায় না আনা গেলে এই ধরণের অপরাধ বাড়তেই থাকবে। প্রশাসনকে অবশ্যই নজরদারি বাড়াতে হবে এবং গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, এলাকায় সিসিটিভি এবং পেট্রোলিং জোরদার করার। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, দ্রুত সত্য সামনে আসবে এবং প্ৰয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা খণ্ডিত মরদেহ, রংপুর ব্যবসায়ী হত্যা, হাইকোর্ট ড্রাম মামলা, শাহবাগ পুলিশ তদন্ত, কাঁচামাল ব্যবসা

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman