দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট একইদিনে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও গতিময় করার প্রচেষ্টার অংশ।
এই চিঠি বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ইসি সচিবালয়ে পৌঁছায়, যাতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে গণভোটের দায়িত্ব ইসির উপর এবং এটি সংসদ নির্বাচনের সাথে সমান্তরালভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোর হাইটসে আয়োজিত ‘বিল্ডিং ব্রিজ: রিজিওনাল ইলেকটোরাল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড সিটিজেন অবজারভেশন এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক কর্মশালায় এ তথ্য প্রথম প্রকাশ্যে জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনসের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তারা প্রস্তুত। আগামী সপ্তাহে গণভোট সংক্রান্ত আইন পাস হলে প্রক্রিয়া শুরু হবে। নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করা হতে পারে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে, যাতে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণ সম্ভব হয়।
এই সিদ্ধান্তের পটভূমি জুলাইয়ের জাতীয় সনদে সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলোর উপর জনমত গ্রহণ। সিইসি জানান, এতে নির্বাচনকে উৎসবমুখর করা যাবে এবং খরচও কমবে, যদিও লজিস্টিকস চ্যালেঞ্জ বাড়বে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের সুযোগ কিন্তু স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। ইসি ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করেছে, যাতে ভোটাররা অবাধে অংশ নিতে পারে। এই পদক্ষেপ দেশের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যদিও বাস্তবায়ন সফল হলে সংবিধানীয় সংস্কারের পথ সহজ হবে।
