দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরে ৫০ বছরের বিলাল আহমেদ ওয়ানী নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গত ১৫ নভেম্বর তার ছেলে জাসির বিলাল ও ভাই নবীল আহমেদকে দিল্লির সাম্প্রতিক বোমা বিস্ফোরণের ভুয়া অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। থানায় গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ায় প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণায় তিনি এই চরম পদক্ষেপ নেন। রোববার দগ্ধ অবস্থায় শ্রী মহারাজা হরি সিং হাসপাতালে নেওয়া হলে সোমবার তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
২০১৯ সালে আর্টিকেল ৩৭০ বাতিলের পর থেকে কাশ্মীরে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর দমননীতি বেড়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে প্রায় দেড় হাজার মুসলিম যুবককে পিএসএ ও ইউএপিএ-র আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও ‘হোয়াইট কলার টেররিজম’ অভিযোগ তুলে অভিযান চলছে।
বিলালের মৃত্যু কাশ্মীরে প্রথম আত্মাহুতির ঘটনা। স্থানীয়রা বলছেন, পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার, বাড়িঘর ভাঙচুর ও জীবিকা ধ্বংসের কারণে মানুষের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। ২০২০ থেকে এ পর্যন্ত ১১৭২টি বেসামরিক বাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে বলে লিগ্যাল ফোরাম ফর কাশ্মীর জানিয়েছে। আপেলচাষি থেকে শুরু করে শিক্ষক, সবাই অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপে রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও বিলালের মৃত্যুতে সাড়া দেয়নি। তবে কাশ্মীরি নেতারা বলছেন, এটি দখলদারির বিরুদ্ধে নিরব প্রতিবাদের এক কঠিন বার্তা।
সূত্র: আল জাজিরা, দ্য ওয়্যার, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিস।
