লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

রাত ২টা ১৫ মিনিট, একটি ঘোষণা, একটি স্বাধীন জাতির পথ চলার সূচনা

প্রকাশিত: 25 মার্চ 2026

28 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ এক অনন্য মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই রাতে চট্টগ্রামে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং বাঙালি সেনাদের সংগঠিত করে প্রতিরোধ যুদ্ধের সূচনা করেন বলে ঐতিহাসিক দলিল ও স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জিয়াউর রহমান ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। রাত প্রায় ২টা ১৫ মিনিটে তিনি পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং বাঙালি সেনাদের স্বাধীনতার লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে স্বাধীনতার প্রথম বার্ষিকীতে প্রকাশিত ‘বার্থ অব অ্যা নেশন’ শীর্ষক স্মৃতিচারণমূলক নিবন্ধে জিয়াউর রহমান ওই রাতের ঘটনাবলি বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি লিখেছিলেন, বাঙালি অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার এবং সৈনিকদের একত্র করে সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা গ্রহণ করেন।

বিদ্রোহ ঘোষণার পর তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট এলাকায় যান, যেখানে বাঙালি বেতারকর্মীরা অস্থায়ীভাবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। সেখান থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করা হয় বলে ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখ করা হয়।

নিজের লেখায় জিয়াউর রহমান পাকিস্তান আমলে বাঙালিদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বঞ্চনার ইতিহাসও তুলে ধরেন। ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়কে তিনি স্বাধীনতার সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্যমূলক নীতি এবং সামরিক দমনপীড়নই শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধকে অনিবার্য করে তোলে।

স্মৃতিচারণে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২৫ মার্চের গণহত্যার খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত ব্যাটালিয়নে ফিরে আসেন এবং বাঙালি সৈন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্রোহ সংগঠিত করেন। পরে বেসামরিক প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও বিদ্রোহের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২৬ মার্চের সূচনালগ্নের ঘটনাবলি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এখনও গবেষণা ও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে ঘটনাপ্রবাহের ব্যাখ্যায় ভিন্নতা থাকলেও ওই সময়ের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধই স্বাধীনতা সংগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ দেয়।

 

সূত্র: BSS,

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman