লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

লন্ডনে নাকবা দিবসের মিছিলে আড়াই লাখ মানুষের অংশগ্রহণ

প্রকাশিত: 17 মে 2026

72 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

লন্ডন ১৭ মে ২০২৬ : ফিলিস্তিনি নাকবা দিবসের ৭৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অনুষ্ঠিত বিশাল গণসমাবেশ ও মিছিলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। শনিবার সেন্ট্রাল লন্ডনে আয়োজিত এই কর্মসূচি ঘিরে পুরো শহরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠনগুলোর জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ, ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানান। অংশগ্রহণকারীদের অনেককে ফিলিস্তিনি পতাকা ও ঐতিহ্যবাহী কেফিয়্যাহ পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।

একই সময়ে কট্টর ডানপন্থি কর্মী টমি রবিনসনের নেতৃত্বে পৃথক পাল্টা বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেট্রোপলিটন পুলিশ চার হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করে। পুলিশ এই নিরাপত্তা অভিযানকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় জননিরাপত্তা কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পুলিশ জানায়, বিকেল পর্যন্ত অন্তত ৩১ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে তারা কোন কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী ছিলেন তা স্পষ্ট করা হয়নি। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

নাকবা দিবস মূলত ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনির বাস্তুচ্যুতি ও সহিংসতার স্মরণে পালিত হয়। ফিলিস্তিনি সূত্র অনুযায়ী, সে সময় সাত লাখের বেশি মানুষ নিজভূমি ছাড়তে বাধ্য হন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ব্রিটিশ রাজনীতিক জেরেমি করবিন, জারা সুলতানা, ডায়ান অ্যাবট এবং জন ম্যাকডোনেলের মতো নেতারা। বক্তারা গাজায় চলমান মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং যুক্তরাজ্য সরকারের নীতির সমালোচনা করেন।

জন ম্যাকডোনেল বলেন, গাজায় যুদ্ধ এবং মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে এই মিছিল বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের প্রতি পশ্চিমা সমর্থন বন্ধে জনচাপ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে “গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা” স্লোগানকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে। ফিলিস্তিনপন্থি গোষ্ঠীগুলো অভিযোগ করেছে, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। একই সঙ্গে ইসলামভীতি এবং অভিবাসীবিরোধী রাজনীতিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, লন্ডনের এই সমাবেশ শুধু ফিলিস্তিন ইস্যুর প্রতীকী প্রতিবাদ নয় বরং এটি ইউরোপীয় রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান সামাজিক মেরুকরণেরও প্রতিফলন।

 

সূত্র : এএফপি, আল জাজিরা

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman