দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যক্তিগত পরিচয়ে অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদুর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ থাকায় দলীয় পরিচয়, পদ বা প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে কোনো ব্যক্তি যদি নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান এবং নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত শর্তাবলি পূরণ করেন, তাহলে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা থাকবে না।
তিনি বলেন, কোনো প্রার্থী যদি নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পরিচয় বা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কার্যক্রমের পক্ষে প্রচার চালান, তাহলে সেটি সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তবে ব্যক্তি হিসেবে আইন ও বিধিমালার শর্ত পূরণ করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীদের নির্বাচনী অংশগ্রহণের সুযোগ ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, তিস্তা অববাহিকায় ব্যারেজ বা রিজার্ভার নির্মাণ করতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে এবং বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নেই এমন প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা রাখে। তবে কোনো বন্ধুপ্রতিম দেশ সহযোগিতা করতে চাইলে সেই সুযোগও উন্মুক্ত রাখা হবে।
সীমান্তে পুশইনের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশকে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে চাপে রাখার উদ্দেশ্যে এসব ঘটনা ঘটছে বলে সরকার মনে করে না। তার মতে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বিষয়টির সম্পর্ক থাকতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের এই অবস্থান রাজনৈতিক দল, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মহল এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে।

