দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী, জনমুখী এবং সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। একই দিনে বাজেট বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজেটটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করেছে এবং এতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন রয়েছে।
তিনি বলেন, কেবল বড় অঙ্কের বাজেট প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়। বরং নির্ধারিত কর্মসূচি, উন্নয়ন প্রকল্প এবং সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে না পারলে জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে। তাই বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সাবেক এই অর্থ উপদেষ্টা মনে করেন, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সামনে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করা, ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ গ্রহণের চাপ সামাল দেওয়া এবং বৃহৎ আকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে প্রায়ই সময়ক্ষেপণ, ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়ন জটিলতা দেখা যায়। ফলে জনগণ প্রত্যাশিত সুফল সময়মতো পায় না। এজন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উচিত অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পে মনোযোগ দেওয়া। শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই হবে না, প্রতিটি প্রকল্পে জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং দক্ষ জনবলের ঘাটতির মতো সমস্যাগুলোও মোকাবিলা করতে হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন বাজেটের মাধ্যমে সরকার প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের ভাষায়, বাজেটের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে এর ঘোষণায় নয়, বরং বাস্তবায়নের গতি, গুণগত মান এবং সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে।
