দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানীর বনানীতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ইসমাইল হোসেনের লাশ ফেলে যাওয়ার ঘটনায় বাসচালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বাসভাড়া দেওয়ার সময় ইসমাইলের লুঙ্গির কোচে থাকা বিপুল পরিমাণ টাকা দেখতে পেয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাসটির সুপারভাইজার। পরে চালক ও সহকারীর সঙ্গে মিলে তাকে হত্যা করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান তারা।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন রাজ ক্ল্যাসিক পরিবহনের চালক সোহেল রানা, সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন এবং সহকারী মো. মনির হোসেন। রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. ফারুক হোসেন এসব তথ্য জানান। তিনজনই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
৪ সেপ্টেম্বর সকালে বনানী থানাধীন বিমানবন্দরমুখী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের স্টেডিয়ামসংলগ্ন অংশে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মুখ ও দুই হাত স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। গলায়ও কালচে দাগ ছিল। পরে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হয়। তিনি জামালপুরের ইসমাইল হোসেন।
পুলিশের তথ্যমতে, জমি বিক্রির প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে জামালপুর থেকে গাজীপুরের কাশিমপুরে যাচ্ছিলেন ইসমাইল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতির জন্যও ওই অর্থ প্রয়োজন ছিল। তিনি গাজীপুরের জিরানী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর কথা থাকলেও সেখানে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তদন্তে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক একটি বাসের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। পরে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে রাজ ক্ল্যাসিক পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হয়। একে একে বাসের সুপারভাইজার, সহকারী ও চালককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইল ওই বাসে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর সুপারভাইজার সাজু তার কাছে ভাড়া চাইলে ইসমাইল লুঙ্গির কোচ থেকে টাকা বের করে ভাড়া দেন। তখন তার কাছে থাকা আরও টাকা সাজুর নজরে পড়ে। বিষয়টি তিনি চালক সোহেলকে জানান। এরপর ইসমাইলের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ রয়েছে ধরে নিয়ে তাকে টার্গেট করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, অন্য যাত্রীদের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেওয়া হলেও ইসমাইলকে নির্ধারিত স্থানে নামানো হয়নি। তাকে ঘুমিয়ে থাকতে বলা হয় এবং গন্তব্যে পৌঁছে ডেকে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
পুলিশ বলছে, পরে বাসের ভেতর ইসমাইলের মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা হয়। এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। লাশ নিয়ে বাসটি ঢাকার দিকে আসে। পরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী-কুড়িল অংশে স্তম্ভ ১৭৯ ও ১৮০-এর মাঝামাঝি এলাকায় লাশটি ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থল ও বাস থেকে দুটি গামছা, রক্তের দাগযুক্ত দুটি আসনের কাভার এবং একটি মুঠোফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ইসমাইলের কাছ থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তার সঙ্গে থাকা পুরো পাঁচ লাখ টাকা কোথায় গেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সাজুর বিরুদ্ধে আগে দুটি ছিনতাই মামলা এবং সোহেলের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
