দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠলে মূল সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ দিকে শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুরো এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং অভিযুক্তকে ঘিরে উত্তেজনায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মো. মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আদালতে তোলার সময় গোপন রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, শিশুটির মা একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন এবং বাবা অটোরিকশা চালান। ঘটনার সময় শিশুটি তার নানির ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত মনির শিশুটিকে কৌশলে পাশের একটি ডেকোরেশনের গোডাউনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে শিশুটির পরিবার ভেঙে পড়েছে। শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাদের একমাত্র সন্তানকে এমন অবস্থায় দেখতে হবে কখনো কল্পনাও করেননি। শিশুটির বাবা বলেন, দরিদ্র হওয়ার কারণে তাদের সন্তানের নিরাপত্তা এত দুর্বল হয়ে পড়েছে কি না, সেই প্রশ্ন এখন তাকে তাড়া করছে।
অভিযুক্ত মনির কুমিল্লার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তিনি ডেকোরেশনের কাজ করতেন এবং পরিবার নিয়ে বাকলিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এলাকায় পরিচিত মুখ ছিলেন। তবে কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, তার কিছু আচরণ আগেও সন্দেহজনক মনে হয়েছিল।
ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ব্যবহার করা হয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং কয়েকটি স্থাপনায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে। রাতভর উত্তেজনার পর শুক্রবার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে পুরো এলাকায় এখনও আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধর্ষণ এবং সহিংসতার ঘটনায় পৃথক মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। তদন্তে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকদের একটি দল কাজ করছে।
শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে দেশে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল কঠোর আইন নয়, সামাজিক সচেতনতা ও দ্রুত বিচারও জরুরি। একই সঙ্গে শ্রমজীবী পরিবারগুলোর শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
