লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ছয় নবজাতকের মৃত্যু: মায়েদের বক্তব্য নিয়ে ৩ জুন তদন্ত প্রতিবেদন

প্রকাশিত: 30 মে 2026

13 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতাল এ ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নির্ধারিত দিনে প্রকাশ করা হচ্ছে না। মৃত নবজাতকদের মায়েদের সঙ্গে কথা বলার পর আগামী ৩ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মোঃ শাখাওয়াত হোসাইন।

শনিবার গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও পূর্ণাঙ্গ ও গ্রহণযোগ্য করতে নবজাতকদের মায়েদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। এ কারণে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। তিনি জানান, শিশুগুলোর পরিবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং তাদের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

গত বুধবার সকালে হাসপাতালটির ডেলিভারির পর চিকিৎসাধীন ওয়ার্ডে এক থেকে তিন দিন বয়সী ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে উদ্বেগ ও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একসঙ্গে একাধিক নবজাতকের মৃত্যুর কারণ জানতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

প্রাথমিকভাবে শনিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মায়েদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আগামী ৩ জুন চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন আলামত, চিকিৎসা নথি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্ত বা পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করা হবে না।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মচারীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

ঘটনার পর হাসপাতালের নবজাতক সেবা ব্যবস্থা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসঙ্গে এতগুলো নবজাতকের মৃত্যু অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা এবং এর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে যদি কোনো অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাগত ত্রুটি বা নিরাপত্তা ঘাটতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে রাজধানীর রমনা থানা। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman