দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বুধবার চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপন করেছেন মির্জাখীল দরবার শরীফ এর অনুসারীরা। সকালে ঈদের জামাত আদায়ের পর বিভিন্ন এলাকায় পশু কোরবানিও সম্পন্ন করা হয়।
বাংলাদেশে সরকারি হিসাবে ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে বৃহস্পতিবার। তবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক প্রজন্ম ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালনের ঐতিহ্য চলে আসছে। বিশেষ করে সাতকানিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও সন্দ্বীপ অঞ্চলে দরবারটির অনুসারীরা এ পদ্ধতি অনুসরণ করেন।
আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ গ্রামে সকাল আটটার দিকে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে বরুমচড়া, হেটিখাইন, কালীপুর ও চাম্বলসহ বিভিন্ন এলাকাতেও জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল, গাটিয়াডাঙ্গা, আলীনগর, বাজালিয়া ও চরতিসহ একাধিক গ্রামে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।
দরবার সূত্র জানায়, মূল খানকাহ মাঠে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান। জামাতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আবু জাফর চৌধুরী বলেন, সকালেই ঈদের নামাজ শেষে এলাকাবাসী কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। উৎসবকে ঘিরে গ্রামগুলোতে ছিল ধর্মীয় ও পারিবারিক আবহ।
মির্জাখীল দরবারের মুখপাত্র মোহাম্মদ মছউদুর রহমান জানান, তারা দীর্ঘ দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে হজের পরের দিন ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন। তার দাবি, চাঁদের অবস্থান ও হজের সময়সূচি বিবেচনায় নিয়েই তারা এ সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেন।
বাংলাদেশে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে জাতীয়ভাবে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও, দেশের কিছু অঞ্চলে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালনের এই ধারা বহু বছর ধরে আলোচিত একটি ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে বিদ্যমান।
