দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির নেত্রী এলিজা জামান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইসহ নির্বাচনের নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা শেষে একক বৈধ প্রার্থী থাকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর।
এলিজা জামান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। এ ছাড়া তিনি পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁর মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর গত ১ অক্টোবর তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে জানায়।
তবে ওই ঘটনার সঙ্গে মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগ এবং তদন্তের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার বিষয় দুটি আলাদা। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলও পৃথকভাবে বিবেচ্য।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনে আগামী ১২ নভেম্বর ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৬ অক্টোবর। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২৮ অক্টোবর আপিল করা যাবে। পরদিন ২৯ অক্টোবর আপিল নিষ্পত্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১ নভেম্বর। এরপর ২ নভেম্বর প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে নির্ধারিত দিনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনটি বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর জন্য নির্ধারিত। তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ভোট অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষে একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে।
এ অবস্থায় এলিজা জামানের সংসদ সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়নি। তাঁর প্রার্থিতা ও নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর।
