দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের নির্মম হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি শিশুটির হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “প্রিয় সোনামণি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত। তুমি নিষ্পাপ ছিলে। তুমি ছিলে তোমার মা বাবা ও বোনের স্বপ্ন।” তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মানবিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
জামায়াত আমির তাঁর পোস্টে অভিযুক্তকে “হায়েনা” আখ্যা দিয়ে বলেন, এই নৃশংস অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি নিহত শিশুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য ধৈর্য প্রার্থনা করেন।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকার একটি বাসা থেকে সাত বছর বয়সী রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটির মাথাবিহীন দেহ খাটের নিচে পাওয়া যায় এবং পরে বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় বিচ্ছিন্ন মাথা। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্যাতনের আলামত প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে দেহ খণ্ডিত করা হয় বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই প্রধান সন্দেহভাজন জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য, ঘটনার সময়ক্রম এবং সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।
রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও যৌন অপরাধ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার ও সমাজভিত্তিক সচেতনতা, মানসিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের শনাক্ত করার ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে।
