দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত ফেরত না দিলেও দুই দেশের সম্পর্ক আটকে থাকবে না, স্পষ্ট কথা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
রোববার (৩০ নভেম্বর ২০২৫) জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিক্যাব আলাপন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আছে, ভারতের সঙ্গেও আছে। কিন্তু হাসিনা দণ্ডিত হওয়ায় তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফেরত পাওয়ার প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। তবে একটা ইস্যু আরেকটা ইস্যুর ওপর নির্ভরশীল নয়। তিস্তার পানি হোক, সীমান্ত হত্যা হোক এগুলোর পাশাপাশি থাকবে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাওয়ার অধিকার। সম্পর্ক আটকে থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “কত দিন লাগবে জানি না, কিন্তু আমরা চাই যে তাদের (দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের) ফেরত দেওয়া হোক, যাতে সাজা কার্যকর করা যায়। দেশের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা নেই
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, “তিনি ভারতে আছেন বলে আমরা জানি, কিন্তু দিল্লি থেকে অফিসিয়ালি কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।”
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পৃথিবীর একমাত্র সীমান্ত যেখানে যুদ্ধাবস্থা নেই, তবু সীমান্ত হত্যা হচ্ছে। ঢাকা বারবার নিন্দা জানিয়ে আসছে।”
‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের উষ্ণ সম্পর্ক ছিল’, এই বহুল প্রচলিত কথা প্রত্যাখ্যান করে তৌহিদ হোসেন বলেন, “উষ্ণ সম্পর্কটা ছিল দুটি সরকারের মধ্যে। এই সম্পর্ক দিয়ে বর্ডার কিলিং বন্ধ হয়নি, তিস্তার পানির হিস্যা পাওয়া যায়নি। জনগণের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ছিল না। বাহ্যিক এই সম্পর্ককে ‘উষ্ণ’ বলতে আমি রাজি নই।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এই স্পষ্ট অবস্থানের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
