লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

‘কামালকে দিয়ে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হবে’: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম

প্রকাশিত: 28 নভেম্বর 2025

97 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

জুলাই গণহত্যার মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ ভারত খতিয়ে দেখছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া শুরু হবে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও একই মামলায় দণ্ডিত আসামি আসাদুজ্জামান খান কামালকে দিয়ে। এই মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “হাসিনার প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে সংঘটিত অপরাধগুলো সম্পর্কে যতদিন যাচ্ছে ততই আলো পড়ছে এবং সেই সঙ্গে গণহত্যা ও গুমের ঘটনায় কামালের ভূমিকা বৈশ্বিক গণমাধ্যমের আরও বেশি মনোযোগ পাবে। আমি ক্রমেই আরও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করেছি যে, ‘ঢাকার কসাই’ আসাদুজ্জামান খান কামাল খুব শিগগিরই বিচারের মুখোমুখি হতে বাংলাদেশে প্রত্যর্পিত হবেন।”

শফিকুল আলমের মতে, কামাল ‘ঢাকার কসাই’ বলে পরিচিত, তার ভূমিকা গণহত্যা ও গুমে সবচেয়ে স্পষ্ট। আইসিটির রায়ে তার দায় সরাসরি প্রমাণিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার অফিসের সূত্র বলছে, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগোবে, প্রথমে কামাল, তারপর অন্যরা। এতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো সহজ হবে।

শফিকুল আলম যোগ করেছেন, “কামাল বা অন্য আওয়ামী লীগ নেতারা যত অর্থই ব্যয় করুক না কেন, চিরদিন দায় এড়ানো সম্ভব হবে না। আমরা জাতি হিসেবে যদি জুলাইয়ের গণহত্যার শিকারদের জন্য এবং হাসিনা আমলে সংঘটিত সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করতে দৃঢ় ও মনোনিবেশ থাকতে পারি, তবে যারা এসব ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের পক্ষে পরিণতি এড়িয়ে যাওয়া দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠবে।”

১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) জুলাই গণহত্যার মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসির দণ্ড দেয়। রায়ের পরপরই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ২৩ নভেম্বর নিশ্চিত করেন, দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রত্যর্পণের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) ২৬ নভেম্বর এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা বাংলাদেশের অনুরোধ খতিয়ে দেখছি।” এটি দুই দেশের মধ্যে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আলোকে করা হচ্ছে। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে এখনও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বা সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত নেই।

আগে গত বছর ডিসেম্বরে দুই দফায় প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাঠানো হয়, কিন্তু ভারত কোনো সাড়া দেয়নি। রায়ের পরও ভারতের বিবৃতি শুধু “খতিয়ে দেখা” বলে সীমাবদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ের অধীন হলে প্রত্যর্পণ জটিল হয়ে যায়। তবে বাংলাদেশ দাবি করছে, চুক্তি অনুযায়ী এটি বাধ্যতামূলক।

 

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman