লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

তেলের লাইনে চরম ভোগান্তি, কথা অনুযায়ী কাজ না হওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: 16 এপ্রিল 2026

11 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

রাজধানী ঢাকায় জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে অস্বস্তি তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন রিফুয়েলিং স্টেশনেগুলোতে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীর অনেক তেলের পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ আছে। আর যে সব পাম্পে তেল আছে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কোথাও কোথাও এই লাইন দুই কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ হচ্ছে, ৩-৪ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই তেল না পেয়ে ফিরে গেছেন। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ চালকরা। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দেশে জ্বালানী সংকট নেই।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েকটি বড় তেলবাহী কার্গোর বিলম্বিত আগমন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা অনিয়মিত হয়ে পরার কারণে সাময়িক ঘাটতির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই সময়ে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় অনেক ভোক্তা অতিরিক্ত তেল কিনতে শুরু করায় চাহিদা হঠাৎ বেড়ে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন।

তারেক হাসান একজন চাকুরীজীবি, তিনি রাজধানীর পরীবাগের একটি রিফুয়েলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের তেলের লাইনে প্রায় ২ ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন, তিনি জানান, “আমি প্রায় ২ ঘন্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, আর কতক্ষন দাঁড়াতে হবে জানিনা, এভাবে ২-১ দিন পর পর দুই থেকে আড়াই ঘন্টা লাইন ধরে তেল নেওয়াটা বেশ কষ্টের এবং অফিসকে ম্যানেজ করতেও অনেক ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। ” তিনি আরো বলেন, “যদি পর্যাপ্ত জ্বালানি থেকেই থাকে তবে অন্য অনেক পাম্প তেল স্বল্পতায় বন্ধ হবে কেন? কথার সাথে তো কাজের কোনো মিল পাচ্ছিনা।”

এ অবস্থায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে প্রায় দুই মাসের চাহিদা মেটানোর মতো জ্বালানি মজুত রয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে পর্যাপ্ত আমদানি সম্ভব হবে এবং বাজারে তেলের ঘাটতি হওয়ার কথা নয়।

তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। রাজধানীর পরিবাগ, শাহবাগ, মতিঝিল, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় পাম্পে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে তেল পাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ বন্ধ রেখে শুধু ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে।

প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় এলাকার ট্রাস্ট পাম্পের লাইন প্রায় মহাখালী পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। উবার চালক সারোয়ার বলেন, “লাইনে আছি প্রায় দেড় ঘন্টা হলো, আরো ঘন্টা দুয়েক লাগতে পারে পাম্প পর্যন্ত পৌঁছতে, তারপরেও তেল পাওয়ার কোনো গ্যারান্টি নাই, এমন হলে ভাড়া নিয়ে গাড়ী চালাবো কিভাবে, আয়-রোজগারও কমে গেছে অনেকটা।”

সরকারি হিসাব অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুতের দাবী করা হলেও মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন।মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি এই সংকটের মূল কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। দ্রুত স্বচ্ছ বিতরণ ও কঠোর নজরদারি না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman