লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ফারাক্কার পাঁচ দশক পর মৃতপ্রায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নদীগুলো

প্রকাশিত: 17 মে 2026

72 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১৬ মে ২০২৬ : বর্ষায় উত্তাল জলরাশি আর শুষ্ক মৌসুমে ধু ধু বালুচর। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা, মহানন্দা, পাগলা ও পুনর্ভবা নদীর বর্তমান চিত্র এখন এমনই। বৈশাখের খরতাপে নদীগুলোর অধিকাংশ অংশ শুকিয়ে গিয়ে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ চর। কোথাও কোথাও ক্ষীণ জলধারা থাকলেও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

আজ ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঐতিহাসিক লংমার্চ। সে সময় তিনি সতর্ক করেছিলেন, গঙ্গায় বাঁধ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ কমে যাবে এবং চর জেগে উঠবে। প্রায় পাঁচ দশক পর সেই আশঙ্কাই এখন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা এবং বিশেষজ্ঞরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, একসময় যেসব নদীতে সারা বছর নৌকা চলত এখন সেখানে শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে পার হওয়া যায়। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় মাছের উৎপাদন কমেছে এবং জীবিকা সংকটে পড়েছেন হাজারো জেলে পরিবার।

সদর উপজেলার আলাতুলি ইউনিয়নের বাসিন্দা কবিরুল হক বলেন, পদ্মা নদীতে আগে সারা বছর পর্যাপ্ত পানি থাকত। এখন নদীর বড় অংশজুড়ে বালুচর দেখা যায়। মাছ কমে যাওয়ায় নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতিও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

শিবগঞ্জ উপজেলার মৎস্যজীবী জামাল উদ্দিন জানান, নদী কখনো ভাঙছে আবার কখনো শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষি ও বসতভিটা দুটিই হুমকির মুখে পড়েছে। পানির অভাবে অনেক জমিতে আগের মতো ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এখন অনেকাংশে ভারতের পানি ছাড়ার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। বর্ষাকালে হঠাৎ অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিলে বন্যা ও নদীভাঙন দেখা দেয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে নদীগুলো মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদে ফারাক্কা ব্যারেজের প্রভাবে নদীর নাব্যতা কমে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে এবং পানি সংরক্ষণে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

আন্তর্জাতিক নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। বিবিসি, রয়টার্স এবং আল জাজিরার বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন, উজানের বাঁধ এবং পানির অপ্রতুলতা এ অঞ্চলের নদী ব্যবস্থাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু কূটনৈতিক আলোচনা নয় বরং নদী পুনরুদ্ধার, খনন এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। অন্যথায় উত্তরাঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি এবং জীববৈচিত্র আরও বড় বিপদের মুখে পড়তে পারে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman