লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

শাপলা চত্বর মামলায় সাবেক ডিআইজি গ্রেফতার

প্রকাশিত: 01 এপ্রিল 2026

24 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে পরিচালিত বহুল আলোচিত ‘অপারেশন ফ্লাশ আউট’ ঘিরে নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। অভিযানের অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মন্ডলকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার রাতে রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের কাছে হস্তান্তর করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী ৫ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে আব্দুল জলিল মন্ডল অভিযানের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারীদের একজন ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত কোর কমিটির সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন সে সময়ের ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ। অভিযানের কৌশল নির্ধারণ, বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং নিরাপত্তা বলয় নিয়ন্ত্রণে তার সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে দাবি করেছে, ওই রাতে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ, হত্যাকাণ্ড এবং মরদেহ গুমের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয় এবং এসব ঘটনায় জলিল মন্ডলের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের মতে, অভিযানের পর হতাহতদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া এবং আলামত নষ্টের পরিকল্পনাতেও তার ভূমিকা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতেই তাকে আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ওই রাতের ‘চেইন অব কমান্ড’, কার নির্দেশে অভিযান শুরু হয়েছিল এবং কারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, পাবনার বাসিন্দা আব্দুল জলিল মন্ডল ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ছাড়াও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালে অবসরের পর তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, শাপলা চত্বর মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের চেষ্টা চলছে। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৩ সালের ৫ মে রাতে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ ৬১ জন নিহতের দাবি করলেও পুলিশ বলেছিল, রাতের অভিযানে কেউ নিহত হয়নি এবং দিনভর সংঘর্ষে ১১ জন মারা যান।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বিতর্কিত এই ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি সংবেদনশীল অধ্যায় নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman