দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানী ঢাকা ও সিলেটের মধ্যে রেল যোগাযোগ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা রেলস্টেশনে সিলেট থেকে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় এই ঘটনা ঘটে। প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে লাইনচুত্য হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটি আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেনের সাহায্যে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার লিটন দে জানান, “কালনী এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ৭৭৪) সিলেট থেকে ছেড়ে আসার কয়েক ঘণ্টা পর ইটাখোলায় পৌঁছাতেই ইঞ্জিনের টেকনিক্যাল ত্রুটিতে থেমে যায়। বেলা ১টায়ও মেরামত সম্ভব হয়নি। ফলে সিলেট-ঢাকা মূল লাইনে সব ট্রেন স্থবির হয়ে আছে।”
বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্র জানায়, এই ত্রুটির কারণে সিলেট-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সব ট্রেনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সিলেট থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথেও প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে চলমান ট্রেনগুলোর ব্যাপক শিডিউল বিপর্যয় না ঘটলেও, কিন্তু দেরিতে চলছে। রিলিফ ট্রেন আখাউড়া থেকে রওনা হয়েছে এবং আরও সহায়ক ইঞ্জিন পাঠানো হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে ইঞ্জিন পরিবর্তন বা মেরামত করে যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
কালনী এক্সপ্রেস ঢাকা-সিলেট মূল লাইনের একটি জনপ্রিয় ইন্টারসিটি ট্রেন। সিলেট থেকে সকাল ৬:১৫ মিনিটে ছেড়ে দুপুর ১টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা। এই রুটে দৈনিক কয়েক হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। ইঞ্জিন বিকলের ঘটনায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকে ট্রেন থেকে নেমে রাস্তায় হাঁটছেন বা বাসে চড়ার চেষ্টা করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, “যাত্রা শুরু হওয়ার পরই এমন অবস্থা, যেন রেলওয়ে সিস্টেমটাই ভেঙে পড়ছে।”
বাংলাদেশ রেলওয়ের সাব এডিএম জাফরুল ইসলাম বলেন, “ইঞ্জিনের মেকানিক্যাল ত্রুটি সনাক্ত হয়েছে। দ্রুত মেরামতের চেষ্টা চলছে। যাত্রীদের অসুবিধার জন্য দুঃখিত, আশা করা যায় ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে।”
এই ঘটনা ঢাকা-সিলেট রুটের দীর্ঘদিনের সমস্যা তুলে ধরেছে। রেলপথের পুরনো ট্র্যাক, ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অতিরিক্ত যাত্রীবোঝা এসব কারণে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে। গত বছরও একই রুটে পারাবত এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে ৩ ঘণ্টা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেলওয়ের আধুনিকীকরণ না হলে এমন ঘটনা বাড়বে।
যাত্রীরা এখন অপেক্ষায় আছে পুনরায় যোগাযোগ স্বাভাবিক হবার ।
