লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

দিনাজপুরে জমে উঠেছে লিচুর বাজার, ৯০০ কোটি টাকা আয়ের আশা

প্রকাশিত: 01 জুন 2026

13 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ফল দিনাজপুরের বেদানা লিচুসহ বিভিন্ন জাতের লিচু বাজারে আসতে শুরু করেছে। জেলার পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে এখন চলছে লিচু কেনাবেচার উৎসবমুখর পরিবেশ। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, চলতি মৌসুমে লিচু বিক্রি থেকে জেলার চাষিরা প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকা আয় করতে পারবেন।

জেলার কালিতলা, পুলহাট ও আশপাশের বৃহৎ পাইকারি বাজারগুলোতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা লিচু কিনতে আসছেন। বিশেষ করে বেদানা, মাদ্রাজি ও চায়না-৩ জাতের লিচুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বাজারে বর্তমানে প্রতি ১০০ মাদ্রাজি লিচু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বেদানা লিচু ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং চায়না-৩ লিচু ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুরে চলতি বছর প্রায় ৭ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন। উৎপাদিত লিচুর প্রায় ৮০ শতাংশ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।

দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী বেদানা লিচু ইতোমধ্যে ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে এই লিচুর আন্তর্জাতিক বাজারও তৈরি হয়েছে। গত মৌসুমে ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি করা হয়েছিল, আর এবারও কয়েকটি দেশ আগাম আগ্রহ দেখিয়েছে।

দিনাজপুরের আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, সময়মতো বৃষ্টি এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শের কারণে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়ার কিছু প্রতিকূলতা থাকলেও চাষিরা ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হয়েছেন।

তবে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য নিয়ে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারদের কারণে বাজারদর তুলনামূলক বেশি রয়েছে। ফলে স্থানীয় ক্রেতাদের কিছুটা বেশি দাম গুনতে হচ্ছে।

ফল ব্যবসায়ী ও বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা, উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং রপ্তানি সুবিধা বাড়ানো গেলে দিনাজপুরের লিচু দেশের কৃষি অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।

দিনাজপুরের লিচু শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়, এটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অর্থনৈতিক পণ্য। জিআই স্বীকৃতি এবং রপ্তানি বাজারের সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে এ খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।

 

সূত্র: বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাসস

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman