দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
স্বামী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালেহা খাতুন শিউলি প্রায় ১২ বছর কারাভোগের পর অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তদন্তে গুরুতর ঘাটতি, ফরেনসিক পরীক্ষার অভাব এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস এবং মো. রিয়াজ উদ্দিন খান সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের অক্টোবরে ঢাকার পল্লবীতে অবসরপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে শিউলির বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১৭ সালে ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে।
রায়ে উচ্চ আদালত বলেন, শুধুমাত্র স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে কাউকে দণ্ডিত করা যায় না। এর সমর্থনে স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য ও বৈজ্ঞানিক সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকা আবশ্যক। কিন্তু এ মামলায় তদন্তকারী সংস্থা সেই মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি।
আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, নিহত ব্যক্তিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর দাবি করা হলেও ভিসেরা পরীক্ষা করা হয়নি। জব্দ করা এনার্জি ড্রিংকের বোতলের রাসায়নিক পরীক্ষাও করা হয়নি। একই সঙ্গে রক্তমাখা ছুরি ও তোষকের কোনো ফরেনসিক পরীক্ষা না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ আলামত যাচাইয়ের সুযোগ নষ্ট হয়েছে।
রায়ে আরও বলা হয়, একজন অবসরপ্রাপ্ত ও শক্তসমর্থ ব্যক্তিকে একা একজন নারী হত্যা করেছেন বলে যে দাবি করা হয়েছে, সেটির পক্ষে স্বাধীন কোনো সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়নি। মামলার সাতজন সাক্ষীর কেউই প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না।
আদালত আরও লক্ষ করেন, গ্রেপ্তারের পর শিউলিকে দীর্ঘ সময় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল এবং তার জবানবন্দি স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। ফলে কথিত স্বীকারোক্তির ওপর নির্ভর করে দেওয়া সাজা টেকসই নয় বলে মত দেন বিচারকরা।
হাইকোর্টের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে পদ্ধতিগত ও প্রমাণগত একাধিক ত্রুটি রাষ্ট্রপক্ষের মামলাকে দুর্বল করেছে এবং অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। এ কারণে শিউলিকে খালাস দিয়ে অন্য কোনো মামলায় প্রয়োজন না থাকলে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে ফৌজদারি মামলায় বৈজ্ঞানিক তদন্ত, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া শুধু স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে দণ্ড দেওয়া বিচারিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
