লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

আদালতের কাঠগড়া থেকে হ্যান্ডকাফ খুলে পালালেন হত্যা মামলার আসামি

প্রকাশিত: 06 অক্টোবর 2026

2 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের একটি এজলাস থেকে হ্যান্ডকাফ খুলে পালিয়েছেন হত্যা মামলার এক আসামি। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের ৭ নম্বর এজলাসে এ ঘটনা ঘটে। পালিয়ে যাওয়া আসামির নাম শরিফুল ইসলাম। তাঁর বয়স ২৮ বছর।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার হরিপুর গ্রামের মৃত শফিক আহমেদের ছেলে। তিনি খিলগাঁও থানার একটি হত্যা মামলার আসামি। একই সঙ্গে কোতোয়ালি মডেল থানায় দণ্ডবিধির ২২৪ ধারায় করা একটি মামলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

আদালতে আসামি হাজির করার দায়িত্বে ছিলেন কনস্টেবল মো. আব্দুল আলিম। আদালতের দায়িত্ব বণ্টন তালিকা অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি শরিফুলকে ৭ নম্বর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে নিয়ে যান।

আদালতে নেওয়ার পর শরিফুলের হাতে থাকা হ্যান্ডকাফের একটি অংশ কাঠগড়ার লোহার শিকের সঙ্গে এবং অন্য অংশ তাঁর হাতে আটকে রাখা হয়। এরপর দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য এজলাসের সামনের বারান্দায় অবস্থান নেন।

প্রায় দুই ঘণ্টা পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কনস্টেবল আব্দুল আলিম এজলাসে প্রবেশ করে দেখতে পান কাঠগড়ায় আসামি নেই। সেখানে কাঠগড়ার শিকের সঙ্গে শুধু হ্যান্ডকাফটি ঝুলতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো এক পর্যায়ে শরিফুল হ্যান্ডকাফ খুলে আদালত থেকে বেরিয়ে যান।

ঘটনার পর আদালত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একজন আটক আসামি কীভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের নজর এড়িয়ে আদালতের এজলাস থেকে বেরিয়ে গেলেন এবং আদালত চত্বরের বাইরে চলে গেলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানিয়েছেন, আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলাসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশসহ একাধিক দল কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আদালত থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা বিচারিক নিরাপত্তা ও আসামি পরিবহনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে গুরুতর মামলার আসামিদের আদালতে হাজির করার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা।

পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক শরিফুলকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর পালিয়ে যাওয়ার পুরো ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এতে কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman