দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১৬ বছর পর জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন রোববার (৩০ নভেম্বর ২০২৫) বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—
– এই হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলগত সম্পৃক্ততা ছিল।
– প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন তৎকালীন এমপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
– পুরো ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল।
– ভারতের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, ঘটনার সময় ৬৭ জন ভারতীয় নাগরিকের হদিস মিলছে না।
– উদ্দেশ্য ছিল সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা, ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা এবং বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা।
রোববার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এবং সন্ধ্যায় সায়েন্স ল্যাবের বিআরআইসিএম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে কমিশন এসব তথ্য প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে উঠে আসা মূল সিদ্ধান্ত :
- আওয়ামী লীগের দলগত জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে।
- হত্যাকাণ্ডের আগে মসজিদে, ট্রেনিং গ্রাউন্ডে দীর্ঘদিন ধরে গোপন বৈঠক হয়েছে।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের ২০-২৫ জনের মিছিল পিলখানায় ঢুকে, বের হয় দুই শতাধিক লোকের মিছিলে। কমিশনের ধারণা, এর মধ্যে অনেক হত্যাকারী বের হয়ে গেছে।
- তৎকালীন সরকারের নির্দেশে সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযান বন্ধ করা হয়েছিল।
- আলামত নষ্ট, সাক্ষীদের ভয় দেখানো, মিডিয়ার অপেশাদার ভূমিকা
- সবই পরিকল্পিত।
কমিশন প্রকাশিত জড়িতদের নাম :
| ব্যক্তি | পদবি (২০০৯ সালে) |
ভূমিকা |
| শেখ হাসিনা | প্রধানমন্ত্রী | গ্রিন সিগন্যাল প্রদান |
| শেখ ফজলে নূর তাপস | সংসদ সদস্য | প্রধান সমন্বয়ক |
| শেখ ফজলুল করিম সেলিম | আওয়ামী লীগ নেতা | সম্পৃক্ত |
| জাহাঙ্গীর কবির নানক | আওয়ামী লীগ নেতা | সম্পৃক্ত |
| মির্জা আজম | আওয়ামী লীগ নেতা | সম্পৃক্ত |
| সাহারা খাতুন | স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | সম্পৃক্ত |
| মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক | প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা | সম্পৃক্ত |
| জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ | সেনাপ্রধান | সেনা অভিযান বন্ধে ভূমিকা |
| লে. জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর | ডিজিএফআই প্রধান | সম্পৃক্ত |
কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান বলেন, “ঘটনার সময় প্রায় ৯২১ জন ভারতীয় বাংলাদেশে এসেছিল। এর মধ্যে ৬৭ জনের কোনো হদিস মিলছে না। তারা কোথায় গেল, কেন এসেছিল, সেটা খুঁজে বের করতে সরকারকে সুপারিশ করা হয়েছে। ভারতের কাছে জানতে চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “জাতি ১৬ বছর ধরে এই ভয়াবহ ঘটনার সত্য জানতে অন্ধকারে ছিল। কমিশন সত্য উদঘাটন করেছে। জাতি এই কাজ স্মরণে রাখবে। এই প্রতিবেদন জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ।”
কমিশন সুপারিশ করেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে বাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের নৃশংস হত্যার ১৬ বছর পর প্রকাশিত এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
