দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার সকালে কক্সবাজার সফরে পৌঁছেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম কক্সবাজার সফর, যেখানে উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি মিলিয়ে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সকাল ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়ে তিনি সকাল ৯টা ৫৩ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরসঙ্গী ছিলেন।
কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
সফরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন এবং মাছুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মসূচিকে সরকারের অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত মো. ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। রাজনৈতিক ও মানবিক গুরুত্বের কারণে এই কর্মসূচি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সফরকালে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা এবং মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, এসব উদ্যোগ এলাকার প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন গতি আনবে।
বিকেলে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় জেলা বিএনপি আয়োজিত একটি জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখানে তিনি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, স্থানীয় অগ্রাধিকার এবং জাতীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দিনের শেষ ভাগে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যায় লং বিচ হোটেলে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর রাতে বিমানে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের পর দেশে ফিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম কক্সবাজার সফর হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে সফরটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
