দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তার। মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে অনুষ্ঠিত সাক্ষ্যগ্রহণে তাঁরা ঘটনার দিনকার বিভিন্ন পরিস্থিতি আদালতের সামনে তুলে ধরেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আব্দুল হান্নান মোল্লা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করায় আদালতের অনুমতি নিয়ে বসে তিনি সাক্ষ্য প্রদান করেন।
সাক্ষ্যে তিনি জানান, ঘটনার দিন কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় স্ত্রীর ফোন পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন। ভবনের সামনে লোকজনের জটলা দেখে তিনি উপরে ওঠেন এবং জানতে পারেন, তাঁর মেয়েকে পাশের একটি ফ্ল্যাটে খোঁজা হচ্ছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফ্ল্যাটটিতে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়।
তিনি আদালতকে বলেন, ঘটনাস্থলে প্রবেশের পর বিভিন্ন আলামত দেখতে পান এবং পরে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পর তিনি থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।
জেরাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতে দেওয়া বক্তব্য তাঁর নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেওয়া। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না।
এর আগে একই আদালতে সাক্ষ্য দেন রামিসার মা পারভীন আক্তার। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সকালে গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিছু সময় পর ছোট মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্দেহভাজন ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে মেয়ের ব্যবহৃত জিনিসপত্র দেখতে পান বলে আদালতকে জানান।
তিনি বলেন, বারবার ডাকাডাকির পরও ফ্ল্যাটের দরজা খোলা হয়নি। পরে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন এবং পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে ফ্ল্যাটে প্রবেশের পর ঘটনাটির বিভিন্ন আলামত সামনে আসে।
সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে মামলার বিচারাধীন বিষয় হওয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বহুল আলোচিত এ মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। মঙ্গলবারের শুনানি শেষে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রমের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাক্ষ্য, আলামত এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। ফলে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত বলে গণ্য করা যায় না।
