লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

বোতলজাত সয়াবিন তেলে আবার সংকট, দাম বাড়ানোর চাপ

প্রকাশিত: 02 অক্টোবর 2026

18 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

রাজধানীর বাজারে আবারও কমে গেছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ। একাধিক বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় কোম্পানিগুলো কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে। ফলে এক ও দুই লিটারের বোতল অনেক দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না। সংকটের প্রভাব পড়েছে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের বাজারেও। গত এক সপ্তাহে দুই ধরনের তেলের দাম লিটারে কয়েক টাকা বেড়েছে।

খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহকারীরা তাদের জানিয়েছেন কোম্পানিগুলো আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সে কারণে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাজারে তেলের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কিছু দোকানে অল্প পরিমাণে তেল পাওয়া গেলেও প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য মিলছে না।

গত ২ সেপ্টেম্বর সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লিটারপ্রতি ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয়ের চাপের কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে এপ্রিলেও দাম লিটারপ্রতি ৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

কিন্তু দাম বাড়ানোর পরও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েও ঢাকার বিভিন্ন বাজারে এক লিটারের বোতল প্রায় অদৃশ্য ছিল। অনেক দোকানে শুধু দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছিল। ফলে কম পরিমাণ তেল কিনতে চান এমন ক্রেতাদেরও বড় বোতল কিনতে হচ্ছে অথবা খোলা তেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। আগের সপ্তাহে এই দাম ছিল ১৮৬ থেকে ১৯৫ টাকা। একই সময়ে খোলা পাম তেলের দামও বেড়ে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা হয়েছে।

অন্যদিকে পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না। ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর দাবি জানালেও সরকার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নজরদারিতে রয়েছে। এর আগে সরকারি পরিদর্শনে কয়েকটি বাজারে সরবরাহ ঘাটতির অভিযোগ পাওয়া গেলেও অধিকাংশ ব্র্যান্ডের বোতলজাত তেলের সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক ছিল। তবে কিছু ব্র্যান্ডের সরবরাহ তুলনামূলক কম পাওয়া যায়।

বাজার সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দামের ওঠানামা ও আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তন দেশের বাজারে প্রভাব ফেলছে। আবার ভোক্তা পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে, দাম বাড়ানোর আগে বা পরে সরবরাহ কমে যাওয়ার ঘটনা কেন বারবার ঘটছে। আগেও চলতি বছরে একাধিকবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছিল।

সরবরাহ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারও চাপে রয়েছে। ফলে রান্নার তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হলে সীমিত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য ব্যয়ে চাপ আরও বাড়তে পারে।

এখন মূল প্রশ্ন হলো, বাজারে সত্যিই আমদানি ও সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়েছে কি না, নাকি দাম বাড়ানোর প্রত্যাশায় সরবরাহ সীমিত রাখা হচ্ছে। সরকারি সংস্থা, আমদানিকারক ও পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মজুত এবং সরবরাহের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ্যে এলে পরিস্থিতির একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যেতে পারে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman