দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। শুক্রবার সকালে রাজধানীর একাধিক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক সড়ক ও অলিগলিতে এখনো পশুর বর্জ্য, রক্ত ও উচ্ছিষ্ট অংশ ছড়িয়ে রয়েছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।
ঈদের দিন দুপুরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করে দুই সিটি করপোরেশন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ১২ ঘণ্টার আগেই বর্জ্য অপসারণ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তর সিটির আওতাধীন মিরপুর, সাংবাদিক আবাসিক এলাকা, শাহজাদপুর, গুলশান, বনানী ও পূর্ব মণিপুরসহ অন্তত ১৮টি স্থানে কোরবানির বর্জ্য পড়ে রয়েছে। অনেক জায়গায় পশুর রক্ত জমে পচতে দেখা গেছে। কোথাও আবার ভুড়ি, খুর, চামড়া ও পশুর উচ্ছিষ্ট অংশ রাস্তার পাশে স্তূপ হয়ে পড়ে ছিল।

দক্ষিণ সিটির ধানমন্ডি, জিগাতলা, হাজারীবাগ, বকশীবাজার, নাজিরাবাজার ও গণকটুলী এলাকার অন্তত ১১টি স্থানে একই চিত্র দেখা গেছে। কিছু এলাকায় বর্জ্যের কারণে সড়কের বড় অংশ দখল হয়ে যায় এবং চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে নাজিরাবাজার ও গণকটুলী এলাকায় পশুর রক্ত ও বর্জ্য জমে দুর্গন্ধ ছড়াতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আব্দুস সালাম দাবি করেছিলেন, ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭১টি ওয়ার্ড শতভাগ বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু শুক্রবার সকালে যেসব এলাকায় বর্জ্য পাওয়া গেছে, সেগুলোর কয়েকটি ওয়ার্ড আগেই “সম্পূর্ণ পরিষ্কার” বলে দাবি করা হয়েছিল।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে দুই সিটির হাজারো পরিচ্ছন্নতাকর্মী অংশ নিলেও মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের ঘাটতি ও পরিবহন সংকটের কারণে অনেক স্থানে বর্জ্য সময়মতো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, শুধু ঘোষণা নয়, কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত পরিবহন নিশ্চিত না করলে প্রতি বছরই একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে।
